Posts

Showing posts from August, 2017

মেঘ বৃষ্টি ভালোবাসার গল্প

মেঘার সাথে আমার প্রথম দেখা আজ থেকে প্রায় ২ বছর আগে। কোন এক পড়ন্ত বিকেলে সূর্য যখন প্রায় ডুবতে যাচ্ছে ঠিক এমন সময়ে ক্লাস শেষ করে বাসায় আসছিলাম। এমনিতেই সারাদিনের ক্লাসের চাপে প্রচন্ড টায়ার্ড। বাসে একটি সিট পেতেই বসে পরলাম। পাশে একটি মেয়ে বসেছিল। বাসের হেল্পার যখন ভাড়া নিতে আসল তখন আমি ভাড়া দিয়ে দিলাম। কিন্তু পাশের মেয়েটি বলল ভাড়া পরে নিতে। হেল্পার চলে গেলে মেয়েটি ফোনে কার সাথে যেন কথা বলছিল। কথা-বার্তা থেকে বুঝলাম ওর কাছে কোন টাকা নেই। আমি সাধারণত অপরিচিত কারও সাথে যেচে পড়ে কথা কখনই বলি না। কিন্তু ফোন রাখার পর আমি ওকে বললাম যে ভাড়া নিয়ে কোন টেনশন না করতে। আমি দিয়ে দিব। সাথে সাথে ও আমার সাথে ঝগড়া করা শুরু করে দিল। কেন আমি তার ভাড়া দিব, আমার কি ঠেকা পড়েছে এই নিয়ে বিশাল প্যানপ্যানানি শুরু করল। এমনিতেই খুব ক্লান্ত ছিলাম তাই আর কোন কথা না বলে ওকে সরি বলে সিটে মাথাটা এলিয়ে দিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে বোধ হয় হেল্পার এল এবং বিশাল জোড়ে চিল্লাচিল্লি করা শুরু করল। সামনের সিট থেকে উতসুক কয়েকজন উঠে এল এবং নানাকথা বলতে লাগল। পাশে তাকিয়ে দেখি প্রচন্ড শক্ত মেয়েটা লজ্জায় একেবার...

অন্তীর বিয়ে (লিখা অপূর্ব চৌধুরী উচ্ছ্বাস)

লিখাঃ- Apurbo Chowdhury অসহ্য গরম। চারদিকে মানুষ গিজগিজ করছে। বাড়িটাকে কেমন যেন রেল স্টেশনের মত লাগছে। সবার মধ্যে একটা চাঞ্চল্য। যেন খুব তাড়া। এখনি ট্রেন ছেড়ে দেবে, এটাই শেষ ট্রেন, ধরতে না পারলে আর বাড়ি যাওয়া হবে না। একটা ঘোর লাগা পরিবেশ। অনেকে আবার দেখি গরম কাপড়ও পড়েছে। এরা কি পাগল টাগল হয়ে গেছে নাকি। এদিকে আমি ঘামছি আর ঘামছি। আচ্ছা এটা কি শীতকাল!! না না তাহলে আমি এত ঘামছি কেন? বাড়িটাকে এমন সাজিয়েছে কেন? ছবির মত লাগছে। কি সুন্দর বাতি গুলো জ্বলছে নিভছে। অদ্ভুত ছন্দময়তা!! চারদিকের সব মানুষগুলোও সেজেগুজে রং মেখে ঢং সেজেছে। ও আচ্ছা বলাই তো হয়নি, সবাই মিলে আমাকে একটা স্টেজ এ বসিয়ে দিয়ে গেল মাত্র। আমাদের বড় দহলিজের একপাশে আমার পছন্দের নীল অর্কিড আর লাল টকটকে গোলাপ দিয়ে খুব সুন্দর একটা স্টেজ সাজিয়েছে, ঠিক যেমনটা আমি চেয়েছিলাম। আচ্ছা, আমি তো কখনো আম্মু আব্বুকে বলিনি আমার এমনটা পছন্দ, ওরা কিভাবে বুঝে গেল! মা বাবাদের মনে হয় অনেক কিছু বুঝে নিতে হয়।। আমি কে তাইতো বলা হল না!! আমি অন্তী। আমি মা বাবার বড় মেয়ে। আসলে শুধু মা বাবার বড় মেয়ে বললে ভুল হবে, আমি এই বাড়ির বড় মেয়ে এবং একমাত্র মেয়ে। ...

স্বার্থপর

লিখা:- Apurbo Chowdhury ফার্স্ট ইয়ারের মেয়েটা, আনিতা না ফানিতা কি যেন নাম, ভীষণভাবে জাবেদের পেছনে লাগল। ভীষণভাবে বলতে আসলেই ভীষণভাবে। অফটাইমে জাবেদ যেখানেই যাক, তার পেছন পেছন যাওয়া চাই ই। জাবেদ ব্যস্ত মানুষ, হয়তো খেয়াল করে না। মেয়েটা অবশ্য কম ধূর্ত নয়- হাতে নাতে ধরা মুশকিল। কি করে জানি অজুহাত দাড় করিয়ে দেয়। ঠোট বাঁকিয়ে হয়তো বলে- ‘না এমনি’। অথবা কথা না শোনার ভান করে ব্যস্ত হয়ে অন্য দিকে চলে যায়। জাবেদের পেছনে না ঘোরার অবশ্য কোন কারণ আমি খুঁজে পাই না। সদ্য আগত মেয়েরা যেমনটা আশা করে- জাবেদ ঠিক হুবুহু সেই রকম। টি-শার্ট-জিনসের সাথে মাথাভর্তি হেয়ার জেল দিয়ে সারাক্ষণ হাতে একটা ট্যাবলেট নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। এই ট্যাবলেট মানে কিন্তু ডাক্তারের বড়ি নয়, এটাকে বলা হয় ‘ট্যাবলেট কম্পিউটার’। সাত ইঞ্চি ছোট একটা জিনিসের মধ্যে পুরো বিশ্ব। ক্যাফের টেবিলে বসে কফির মগে চুমুক দিতে দিতে যখন সে তার ট্যাবের স্ক্রিণে হাত চালায়, বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলো প্রশংসার দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। মনে হয় সবকয়টার মুখে একটা করে ল্যাবেন চুষ পুরে দেই। আমাদের মতো জ্ঞানী-গুণী মানুষগুলোর কোনও দাম নেই নাকি? জাবেদ ওসব কিছু খেয়াল ...

বাবাদের শেষ আশ্রয় যেন "বৃদ্ধাশ্রম" না হয়।

বাবাকে নিয়ে লিখা একটা ছোট গল্প । পড়ে দেখতে পারেন । আপনার চোখদুটো ভিজে যাবে !! আমার ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা এক বড় ভাইয়ের প্রোফাইল ঘুরে আমি খুবই কষ্ট পেলাম। আমি উনার ভাষায় আপনাদের লিখে জানাচ্ছি। আজকাল লিলির সাথে সম্পর্কটা আমার ভালো যাচ্ছে না । লিলি আমার বিয়ে করা বউ । দেখতে অসম্ভব সুন্দরী সে , আধুনিকা , স্মার্ট আর অত্যন্ত রুচিশীল এই মেয়েটাকে ভার্সিটি লাইফের প্রথম থেকেই আমি পছন্দ করতাম । আমেরিকা থেকে পি এইচ ডি করে আসার পর নামকরা এক ভার্সিটিতে আমি লেকচারার হিসেবে জয়েন করি । তার কিছুদিন পরেই লিলির সাথে আমার বিয়ে হয় । এবার লিলির সাথে আমার সম্পর্কের অবনতির কারণটা ক্লিয়ার করছি । আমার বাবার বয়স প্রায় ৬৫ বছর। মা অনেক আগেই মারা গিয়েছেন । আমার বাবা আলঝেইমার্স নামের এক কঠিন রোগে আক্রান্ত । এই রোগে আক্রান্ত হলে মানুষের হিতাহিত জ্ঞান থাকেনা । সে কাউকে চিনতে পারেনা, ঠিকমত কথা বলতে পারেনা, সবকিছু ভুলে যায়। বাবার সেবা যাতে ঠিকমত করা হয় এ জন্য আমি এক মহিলা পরিচারিকাকে ঠিক করেছিলাম। একবার গুরুত্বপূর্ণ এক সেমিনারে যোগ দেয়ার জন্য আমাকে কয়েকদিন ইন্ডিয়াতে যেতে হয়েছিল । এই সময়ে আবার ঐ পরিচারিকার ভীষণ ...

Welcome to my world

this is my new blog